আশুলিয়ায় ডিবি চালক রোমানের বিরুদ্ধে ‘মাদক বাণিজ্যের’ অভিযোগ: জনমনে ক্ষোফ
নিজস্ব প্রতিবেদক, আশুলিয়া |
[বর্তমান তারিখ, ২০২৬]
সাভার ও আশুলিয়ার অপরাধ জগতে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ্যে এসেছে। ঢাকা জেলা উত্তর ডিবি পুলিশের (গোয়েন্দা শাখা) গাড়ির চালক রোমানের বিরুদ্ধে উদ্ধারকৃত মাদক পুনরায় খোলা বাজারে বিক্রির গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার বিকেলে জনতা কর্তৃক এক মাদক ব্যবসায়ী আটকের পর এই থলের বিড়াল বেরিয়ে আসে।
ঘটনার সূত্রপাত
মঙ্গলবার বিকেলে আশুলিয়ার স্থানীয় বাসিন্দারা মকবুল নামে এক মাদক ব্যবসায়ীকে মাদক বিক্রির সময় হাতেনাতে আটক করে। আটকের পর উত্তেজিত জনতার জিজ্ঞাসাবাদের মুখে মকবুল যা স্বীকার করেছেন, তাতে উপস্থিত সবাই হতবাক হয়ে যান।
মকবুলের ভাষ্যমতে:
তার কাছে থাকা মাদকের যোগানদাতা স্বয়ং ঢাকা জেলা উত্তর ডিবির গাড়ির চালক রোমান।
বিভিন্ন অভিযানে ডিবি পুলিশ যে মাদক উদ্ধার করে, তার একটি বড় অংশ চালক রোমান নিজের হেফাজতে নিয়ে নেন।
পরবর্তীতে সেই উদ্ধারকৃত মাদক মকবুলের মতো খুচরা বিক্রেতাদের মাধ্যমে পুনরায় বাজারে ছড়িয়ে দেওয়া হয়।
বিস্ফোরক দাবি: ‘জানেন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও’
আটক মকবুল আরও দাবি করেন, এই মাদক বাণিজ্যের বিষয়টি ডিবির অনেক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাও অবগত আছেন। চালক রোমানের এই রমরমা কারবার দীর্ঘদিনের এবং পুলিশের একটি অসাধু চক্রের যোগসাজশেই তিনি বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।
“আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাজ মাদক নির্মূল করা। কিন্তু রক্ষকই যদি ভক্ষক হয়ে উদ্ধারকৃত মাদক আবার বাজারে বিক্রি করে, তবে যুব সমাজকে রক্ষা করবে কে?”
— একজন ক্ষুব্ধ স্থানীয় বাসিন্দা।
অনুত্তরিত প্রশ্ন ও জননিরাপত্ত।
এই ঘটনায় ডিবির পেশাদারিত্ব এবং উদ্ধারকৃত আলামত সংরক্ষণের প্রক্রিয়া নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
আলামত লোপাট: অভিযানে জব্দকৃত মাদক আইন অনুযায়ী মালখানায় জমা হওয়ার কথা থাকলেও, তা কীভাবে চালকের হাতে চলে যাচ্ছে?
তদারকির অভাব: একজন সাধারণ চালক কীভাবে কর্মকর্তাদের চোখ ফাঁকি দিয়ে বা তাদের প্রশ্রয়ে এতো বড় সিন্ডিকেট গড়ে তুললেন?
শাস্তি নিশ্চিতকরণ: এই অভিযোগের পর অভিযুক্ত চালক রোমান ও তার পেছনের হোতাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত ও আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি?
কর্তৃপক্ষের বক্তব্য
এ বিষয়ে ঢাকা জেলা উত্তর ডিবি পুলিশের কোনো দায়িত্বশীল কর্মকর্তার আনুষ্ঠানিক বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। তবে স্থানীয়রা এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
সতর্কবার্তা: মাদকের বিস্তার রোধে সাধারণ মানুষের সচেতনতা এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর স্বচ্ছতা এখন সময়ের দাবি। আশুলিয়া এলাকার শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষায় দ্রুত এই সিন্ডিকেট ভাঙা জরুরি।