পারভেজ খান
আশুলিয়া (সাভার) প্রতিনিধি:
পবিত্র ইদুল আজাহা কে কেন্দ্র করে কর্মব্যস্ত ও যান্ত্রিক শহর ছেড়ে নাড়ির টানে গ্রামের বাড়ির পানে ছুটছে লাখো মানুষ। রাজধানী ঢাকা ও এর আশপাশের অন্যতম প্রধান শিল্পাঞ্চল সাভারের বাইপাইল ও নবীনগর এলাকা এখন ঘরমুখো মানুষের উপচে পড়া ভিড়ে মুখরিত। পোশাক কারখানার শ্রমিক, দিনমজুর, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন পেশার মানুষ সব ক্লান্তি ভুলে আপনজনদের সাথে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে নিজ নিজ গ্রামের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন।
সরেজমিনে আজ সকাল থেকেই শিল্পাঞ্চল আশুলিয়া ও সাভারের প্রধান সংযোগস্থল বাইপাইল মোড়ে দেখা গেছে ঘরমুখো মানুষের স্রোত। উত্তরবঙ্গ ও দক্ষিণবঙ্গসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে যাওয়ার জন্য এই রুটে যাত্রীদের চাপ প্রতি মুহূর্তেই বাড়ছে। বিশেষ করে পোশাক কারখানাগুলো পর্যায়ক্রমে ছুটি হওয়ার পর থেকে এই ভিড় আরও বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। ব্যাগ, ট্রাঙ্ক আর কোলের শিশুকে নিয়ে তীব্র গরম, ধুলোবালি ও যানজট উপেক্ষা করেই মানুষ ছুটছেন বাস টার্মিনাল ও কাউন্টারগুলোর দিকে।
যান্ত্রিক জীবনের সব ব্যস্ততা আর হাড়ভাঙা খাটুনির ক্লান্তি এক নিমেষেই মুছে যায় প্রিয়জনদের মুখ দেখার আকুলতায়। বাইপাইল মোড়ে বাসের জন্য অপেক্ষমাণ যাত্রীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, পথঘাটের ভোগান্তি তাদের কাছে তুচ্ছ, যদি সময়মতো পরিবারের কাছে পৌঁছানো যায়।
বাইপাইলে কর্মরত পোশাক শ্রমিক মো. মোতালেব হোসেন বলেন, “সারা বছর ঢাকায় হাড়ভাঙা খাটুনি খাটি শুধু ঈদের সময় পরিবারের মুখে একটু হাসি দেখার জন্য। বাসের টিকিট পেতে অনেক কষ্ট হয়েছে, রাস্তায় জটলা আর গরমও আছে, তাও বাড়ি ফেরার আনন্দ সব কষ্ট ভুলিয়ে দিচ্ছে।”
সড়ক-মহাসড়কে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং যাত্রী সাধারণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ, হাইওয়ে পুলিশ ও জেলা প্রশাসন এবং বাইপাইল এলাকায় আশুলিয়া থানা শ্রমিক দলের সভাপতি আবিদুর রহমান পাশাণ ও সাংগঠনিক সম্পাদক মোহাম্মদ আনসার আলীর নেতৃতে ব্যাপক তৎপরতা লক্ষ্য করা গেছে যেন কোনো কৃত্রিম যানজটের সৃষ্টি না হয়।
ডিউটিরত হাইওয়ে পুলিশের একজন কর্মকর্তা জানান, ঈদযাত্রীদের নিরাপত্তা দিতে তারা ২৪ ঘণ্টা মাঠে কাজ করছেন। তিনি বলেন, “অতিরিক্ত ভাড়া আদায় এবং ফিটনেসবিহীন ও ঝুঁকিপূর্ণ গাড়ির বিরুদ্ধে আমাদের মোবাইল কোর্ট এবং অভিযান অব্যাহত রয়েছে। মহাসড়কে যেন কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে এবং যানজট সহনীয় পর্যায়ে থাকে, সেজন্য আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।”