আশুলিয়া অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সংযোগস্থল বাইপাইল বিএনসিসি (বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোর) মোড়। প্রতিদিন হাজার হাজার শ্রমজীবী মানুষ ও সাধারণ পথচারীর চলাচলের প্রধান মাধ্যম এই সড়কটি। তবে দীর্ঘ দিন ধরে সড়কের দুই পাশ অবৈধভাবে দখল করে গড়ে ওঠা ভ্রাম্যমাণ দোকানের কারণে সড়কটি এখন সাধারণ মানুষের জন্য এক মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে।
ফুটপাত ও সড়ক দখল: জনদুর্ভোগ চরমে
সরেজমিনে দেখা যায়, বিএনসিসি একাডেমির সামনের গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কের দুই পাশ দখল করে বসেছে ফল, কাপড় এবং মুখরোচক খাবারের শত শত ভ্রাম্যমাণ দোকান। রাস্তার অর্ধেকের বেশি অংশ এসব দোকানের দখলে থাকায় সরু হয়ে গেছে চলাচলের পথ। ফলে চব্বিশ ঘণ্টাই এখানে লেগে থাকে তীব্র যানজট। বিশেষ করে সকালে ও সন্ধ্যায় শিল্পাঞ্চলের শ্রমিকরা যখন কর্মস্থলে যাতায়াত করেন, তখন পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করে।
অটো-রিকশার বিশৃঙ্খলা ও ক্রমবর্ধমান দুর্ঘটনা
পথচারীদের অভিযোগ, সড়কের জায়গা সংকুচিত হওয়ায় অটোরিকশা ও ভ্যানগুলো যত্রতত্র দাঁড়িয়ে যাত্রী ওঠানামা করায়। এতে সাধারণ মানুষের হাঁটার জায়গাটুকুও অবশিষ্ট থাকে না। সংকুচিত রাস্তায় দ্রুতগামী অটোরিকশাগুলোর একে অপরকে ওভারটেক করার প্রতিযোগিতায় প্রায় প্রতিদিনই ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা। বিশেষ করে বয়স্ক ও শিশুরা এই পথে চলাচলে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
ভুক্তভোগী এক পথচারী বলেন, “এই রাস্তা দিয়ে শান্তিতে দুই কদম হাঁটার উপায় নেই। একদিকে দোকানের জটলা, অন্যদিকে অটোরিকশার ধাক্কা। প্রতিদিন আমাদের হয়রানি ও ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে, কিন্তু দেখার কেউ নেই।”
কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ
স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, দ্রুত এই অবৈধ দখলদার উচ্ছেদ করে সড়কটি উন্মুক্ত করা প্রয়োজন। বিএনসিসি এলাকাটি একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা হওয়ার সত্ত্বেও এর প্রবেশপথের এমন বিশৃঙ্খলা এলাকার ভাবমূর্তিও ক্ষুণ্ন করছে।
জনসাধারণের প্রত্যাশা:
সড়কের দুই পাশের অবৈধ ভ্রাম্যমাণ দোকান দ্রুত উচ্ছেদ করা।
অটোরিকশা ও ভ্যান দাঁড়ানোর জন্য নির্দিষ্ট স্ট্যান্ড নির্ধারণ করা।
ট্রাফিক পুলিশ বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিয়মিত তদারকি নিশ্চিত করা।
নিরাপদ চলাচল এবং যানজটমুক্ত আশুলিয়া গড়তে প্রশাসন অতি দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে—এমনটাই এখন সাধারণ পথচারীদের প্রাণের দাবি।