বৃহস্পতিবার, ০৯ এপ্রিল ২০২৬, ০৪:৫৪ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
সীমান্ত দিয়ে আসছে মাদক, মোবাইলে চলছে জুয়া; ধরাছোঁয়ার বাইরে গডফাদাররা ঘোড়াঘাটের ন্যাশনাল বিদ্যাপীঠের নবীন বরণ ও এসএসসি পরীক্ষার্থীদের বিদায় অনুষ্ঠান সম্পন্ন ​আশুলিয়ায় ট্রাক ইউনিয়নের ‘পাল্টাপাল্টি’ কমিটি: বিভ্রান্তিতে সাধারণ শ্রমিকরা আশুলিয়ার বাইপাইল এলাকা ফুটপাত দখলমুক্ত করতে থানা শ্রমিক দলের উচ্ছেদ অভিযান আশুলিয়ায় ফুটপাত দখলমুক্ত করতে শ্রমিক দলের উচ্ছেদ অভিযান আশুলিয়ায় ফুটপাত দখলমুক্ত করতে শ্রমিক দলের উচ্ছেদ অভিযান ধামসোনা ইউনিয়নের ৮ নং ওয়ার্ডে মেম্বার হিসেবে সুরুজ মিয়াকে দেখতে চায় এলাকাবাসী আশুলিয়ায় সেনাবাহিনী ও যৌথবাহিনীর অভিযানে দেশীয় অস্ত্র ককটেল উদ্ধার জাহাঙ্গীর মন্ডলসহ তিনজন গ্রেপ্তার ​ধামসোনায় শ্রমিক দলের পথসভা: ডা. দেওয়ান সালাউদ্দিন বাবুর উপস্থিতিতে জনসমুদ্রে পরিণত গোচারটেক ​শ্রীপুরে যুবদল নেতার ওপর অতর্কিত হামলা: আহত ৩, একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক

সীমান্ত দিয়ে আসছে মাদক, মোবাইলে চলছে জুয়া; ধরাছোঁয়ার বাইরে গডফাদাররা

সংবাদ দাতার নাম
  • প্রকাশের সময় : বৃহস্পতিবার, ৯ এপ্রিল, ২০২৬
  • ২ বার পড়া হয়েছে

ফাহিম হোসেন রিজু

ঘোড়াঘাট (দিনাজপুর) প্রতিনিধি:

 

উত্তরের শান্ত জনপদ দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট এখন মাদক এবং অনলাইন জুয়ার এক বিষাক্ত জনপদে রূপান্তরিত হয়েছে। একদিকে সীমান্ত গলিয়ে আসা মাদকের জোয়ার, অন্যদিকে স্মার্টফোনের পর্দায় মরণনেশা অনলাইন ক্যাসিনো—এই দ্বিমুখী আক্রমণে ঘোড়াঘাটের তরুণ প্রজন্ম এখন খাদের কিনারায়। অবস্থা এতটাই ভয়াবহ যে, উপজেলার প্রতিটি পাড়া-মহল্লায় এখন মাদকের ডিলার ও জুয়ার এজেন্টদের এক শক্তিশালী ও অঘোষিত ‘সিন্ডিকেট’ রাজত্ব করছে।

ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে ঘোড়াঘাট এলাকাটি দীর্ঘ দিন ধরেই মাদক পাচারের অন্যতম প্রধান ‘সেফ প্যাসেজ’ বা ট্রানজিট রুট হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। অনুসন্ধানে জানা গেছে, ভারত সীমান্ত সংলগ্ন হিলি হয়ে আসা নিষিদ্ধ ফেনসিডিল, ইয়াবা, হেরোইন এবং জীবনঘাতী অ্যাম্পুল ইনজেকশন এই জনপদ দিয়েই দেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করে।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিতে পাচারকারী চক্র এখন নিত্যনতুন ও অভিনব কৌশল অবলম্বন করছে। চক্রটি এখন ঢাল হিসেবে ব্যবহার করছে নারী ও শিশুদের। তারা শরীরের স্পর্শকাতর অঙ্গে মাদকদ্রব্য সেট করে সাধারণ যাত্রীবাহী বাস, মালবাহী ট্রাক কিংবা সিএনজিতে করে নির্বিঘ্নে গোবিন্দগঞ্জ হয়ে বগুড়া, ঢাকা ও রংপুরে পাচার করছে। মাঝে মধ্যে দু-একটি চালান ধরা পড়লেও নেপথ্যে থাকা মূল হোতারা বা ‘গডফাদাররা’ বরাবরই ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যাচ্ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, থানার পার্শ্ববর্তী অনেক এলাকায় প্রভাবশালীরা মাদকের ডিলারশিপ নিয়ে বসেছে, যারা নির্ভয়ে দিন-রাত এই বিষ সরবরাহ করে যাচ্ছে।

মাদকের পাশাপাশি বর্তমানে সবচেয়ে বড় আতঙ্ক হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে অনলাইন জুয়া বা ক্যাসিনো। Bet365, 1xBet এবং 888 Holdings-এর মতো আরো বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সাইটগুলোতে বুঁদ হয়ে থাকছে স্কুল-কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে বেকার যুবকরা। উচ্চগতির ইন্টারনেটের অপব্যবহার করে এবং বিভিন্ন ভিপিএন (VPN) প্রযুক্তির মাধ্যমে তারা এসব নিষিদ্ধ সাইটে প্রবেশ করছে।

এই ডিজিটাল জুয়ার প্রধান জ্বালানি হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস (MFS)। অভিযোগ রয়েছে, ঘোড়াঘাটে শতাধিক ‘মাস্টার এজেন্ট’ সক্রিয় রয়েছে, যারা স্থানীয় বিকাশ বা নগদ এজেন্টের আড়ালে জুয়াড়িদের থেকে নগদ টাকা সংগ্রহ করে ডিজিটাল ব্যালেন্স সরবরাহ করছে। লোভনীয় অফার আর রাতারাতি বড়লোক হওয়ার স্বপ্নে বিভোর হয়ে সর্বস্বান্ত হচ্ছে মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত পরিবারের সন্তানরা। জুয়ায় হেরে টাকা জোগাড় করতে গিয়ে অনেকে পারিবারিক অশান্তি, চুরি ও ছিনতাইয়ের মতো গুরুতর অপরাধে লিপ্ত হচ্ছে।

যদিও পুলিশ মাঝে মধ্যে লোকদেখানো অভিযান পরিচালনা করে, তবে সচেতন মহলের মতে, প্রশাসনের নিম্নপর্যায়ের কিছু অসাধু সদস্যের সাথে এই মাদক ও জুয়াড়ি চক্রের গোপন যোগসাজশ রয়েছে। ফলে অনেক সময় অভিযানের আগেই খবর ফাঁস হয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠছে। বিশেষ করে বিভিন্ন সামাজিক ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানগুলোতে ইদানীং মাদকের উন্মুক্ত ব্যবহার উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে।

এলাকার বিশিষ্টজনদের মতে, অনলাইন জুয়া নিয়ন্ত্রণে বাংলাদেশে এখনও আধুনিক ও কঠোর আইনের অভাব রয়েছে। এই আইনি সীমাবদ্ধতাকে পুঁজি করে অপরাধীরা একটি বিশাল ‘মানি লন্ডারিং’ নেটওয়ার্ক তৈরি করেছে, যার মাধ্যমে দেশ থেকে প্রতি মাসে কোটি কোটি টাকা বিদেশে পাচার হয়ে যাচ্ছে।

ঘোড়াঘাটের সচেতন নাগরিক সমাজ এই পরিস্থিতি উত্তরণে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়ে বলেন, উপজেলার চিহ্নিত মাদক স্পটগুলোতে নিয়মিত ‘বিশেষ সাঁড়াশি অভিযান’ পরিচালনা করা। অনলাইন জুয়ার সাথে জড়িত মোবাইল ব্যাংকিং এজেন্টদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতাভুক্ত করা। প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ধর্মীয় উপাসনালয়ে মাদকের কুফল নিয়ে ব্যাপক প্রচারণা চালানো। সন্তানদের চলাফেরা ও মোবাইল ব্যবহারের ওপর অভিভাবকদের কঠোর নজরদারি নিশ্চিত করা।

মাদক ও জুয়ার এই জোড়া ছোবল কেবল যুবসমাজকে পঙ্গু করছে না, বরং সামাজিক কাঠামোকে ভেতর থেকে তছনছ করে দিচ্ছে। এখনই কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে অচিরেই এই জনপদ মেধা ও জনশক্তি হারিয়ে এক গভীর সংকটে নিমজ্জিত হবে।

এ বিভাগের আরো সংবাদ
©2020 All rights reserved
Design by: POPULAR HOST BD
themesba-lates1749691102